আপনার যাকাতের অর্থ শুধু কারো একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করে না, বরং একটি অচল সংসারের চাকা আবার সচল করে দিতে পারে। একটি পরিবার পেতে পারে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা, শিশুরা ফিরে পেতে পারে শিক্ষা ও স্বপ্ন দেখার অধিকার, আর অসহায় মানুষগুলো খুঁজে পায় মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথ।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে এবং টেকসই স্বাবলম্বীকরণে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।
ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি
নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:
“ইসলামের কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম?”
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন:
“মানুষকে খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সবার সাথে সালাম বিনিময় করা।”
— সহিহ আল-বুখারি (১২), সহিহ মুসলিম (৩৯)
এক বেলা খাবার। একটি জীবন।
আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশনের ডেইলি ফুড সাপোর্ট প্রোগ্রাম বাংলাদেশজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষুধা ও খাদ্য অনিরাপত্তা দূর করতে একটি জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন দরিদ্র পরিবার, প্রবীণ মানুষ, এতিম শিশু এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয় যাতে কেউ ক্ষুধায় কষ্ট না পায়।
এই কর্মসূচি সরাসরি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে অবদান রাখছে:
SDG 2 – ক্ষুধামুক্তি (Zero Hunger): দরিদ্র মানুষের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা।
SDG 3 – সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (Good Health and Well-being): অপুষ্টি রোধ করে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন।
SDG 1 – দারিদ্র্য বিমোচন (No Poverty): পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ের চাপ কমিয়ে দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখা।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়মিত খাবার বিতরণের মাধ্যমে আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন সমাজের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করছে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
🎯 মিশন
শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করে সকল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্তত এক বেলা পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, বয়স, লিঙ্গ বা পরিচয় নির্বিশেষে।
🌍 ভিশন
একটি ক্ষুধামুক্ত সমাজ, যেখানে কেউ মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে খাদ্য থেকে বঞ্চিত হবে না, যা টেকসই দাতা সহায়তা ও কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
দাতাদের অবদান: ব্যক্তি, পরিবার ও কর্পোরেট স্পন্সররা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সেন্ট্রাল কিচেন কার্যক্রম: আল-মুজাহিদ মেহমানখানায় প্রতিদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করা হয়।
বিতরণ পদ্ধতি: খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়
কমিউনিটি ফিডিং জোনে
রাস্তার পাশের সাপোর্ট পয়েন্টে
শেল্টার হোম ও এতিমখানায়
অংশীদার স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে
রিয়েল-টাইম মনিটরিং: প্রতিদিন কতগুলো খাবার বিতরণ হলো, কোথায় পৌঁছাল এবং এর প্রভাব, সবকিছু নিয়মিত নথিভুক্ত করা হয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে।
🎯 লক্ষ্য (২০২৫–২০২৬)
দৈনিক লক্ষ্য: প্রতিদিন ২,০০০+ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ
বার্ষিক লক্ষ্য: ন্যূনতম ৭,০০,০০০ বেলা খাবার সরবরাহ
ভৌগোলিক বিস্তার: ১৭টি জেলা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০টিরও বেশি জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ
সহযোগিতা: দাতা ও অংশীদার কিচেনের সংখ্যা বৃদ্ধি