আপনার যাকাতের অর্থ শুধু কারো একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করে না, বরং একটি অচল সংসারের চাকা আবার সচল করে দিতে পারে। একটি পরিবার পেতে পারে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা, শিশুরা ফিরে পেতে পারে শিক্ষা ও স্বপ্ন দেখার অধিকার, আর অসহায় মানুষগুলো খুঁজে পায় মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথ।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে এবং টেকসই স্বাবলম্বীকরণে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।
১. পবিত্র কুরআনের আলোকে যাকাত
আল্লাহ তাআলা কুরআনের প্রায় ৩২ জায়গায় নামাজের সাথে সাথে যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন।
সূরা আল-বাক্বারাহ (আয়াত ৪৩):
“তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।”
সূরা আত-তাওবাহ (আয়াত ১০৩):
“তাদের সম্পদ থেকে ‘সদকা’ (যাকাত) গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন।”
সূরা আল-বাকারাহ (আয়াত ২৭৭):
“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, নামাজ কায়েম করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।”
সূরা আত-তাওবাহ (আয়াত ৬০) – যাকাত বণ্টনের খাত:
“যাকাত কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা প্রয়োজন, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (জিহাদ ও দ্বীনের কাজ) এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”
২. হাদিস শরীফের আলোকে যাকাত
রাসূলুল্লাহ (সা.) যাকাত আদায়ের সুসংবাদ এবং অনাদায়ে কঠিন পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন।
ইসলামের ভিত্তি:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর, এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, নামাজ কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
সম্পদ পবিত্র হওয়া:
“যখন তুমি তোমার সম্পদের যাকাত আদায় করলে, তখন তুমি তোমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে (এবং সম্পদকে অপবিত্রতা থেকে বাঁচালে)।” (সুনানে তিরমিজি)
যাকাত দাতার মর্যাদা:
“দান-সদকা বা যাকাত দিলে সম্পদ কমে না।” (সহীহ মুসলিম)
যাকাত অনাদায়ে সতর্কতা:
“যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে একটি বিষধর সাপের রূপ দেওয়া হবে, যা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সাপাটি তার দুই চোয়ালে দংশন করতে থাকবে আর বলবে – আমিই তোমার ধন, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।” (সহীহ বুখারী)
বাংলাদেশের অসহায় এতিম শিশু ও অভিভাবকহীন প্রবীণদের জন্য একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের স্বপ্ন নিয়ে হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন করছে তাদের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ, হিউম্যান এইড
এই প্রকল্পটি শুধু একটি ভবন নয়; এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক জীবনব্যবস্থা, যেখানে অসহায় শিশু ও প্রবীণরা খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার সমন্বিত সেবা পাবে এক ছাদের নিচে।
এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হচ্ছে একটি ১০ তলা বহুতল ভবন, যেখানে প্রতিটি তলায় আলাদা আলাদা মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন বর্তমানে এতিম শিশু এবং অসহায় প্রবীণদের জন্য একটি স্থায়ী আবাসন (Permanent Home) নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে। এই মহৎ কাজে আপনিও হতে পারেন একজন অংশীদার। মাত্র ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদানের মাধ্যমে আপনি এই ভবনের একটি “শেয়ার” নিতে পারেন, যা আপনার জন্য চিরস্থায়ী সওয়াব বা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হবে।
নামফলক বা সম্মাননা: যারা একটি পূর্ণ শেয়ার (১ লক্ষ টাকা) প্রদান করবেন, তাদের নাম (অথবা মৃত মা-বাবার নাম) আল-মুজাহিদ শেল্টারহোমের Honorary Donor Wall-এ আজীবনের জন্য খোদাই করে রাখা হবে।
কিস্তিতে প্রদানের সুযোগ: ১ লক্ষ টাকা এককালীন বা নির্দিষ্ট সময়ের কিস্তিতে (যেমন: ১০ মাসে ১০ হাজার টাকা করে) প্রদান করা যাবে।
সদকায়ে জারিয়া: ভবন যতদিন থাকবে এবং এখানে যত এতিম শিশু ও প্রবীণ আশ্রয় পাবে, তাদের প্রতিটি ইবাদত ও কল্যাণের সওয়াব আপনি পাবেন।
পরিদর্শন ও তদারকি: শেয়ার হোল্ডার হিসেবে যেকোনো সময় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করতে পারবেন এবং কাজের অগ্রগতি সরাসরি দেখতে পারবেন।
যৌথ শেয়ার: বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়ে যৌথভাবে শেয়ার গ্রহণ করা সম্ভব।
নিরাপদ আবাসস্থল: একটি শেয়ার ক্রয় করলে আপনি চাইলে কোনো এতিম, অসহায় বা প্রবীণকে আল-মুজাহিদ শেল্টারহোমে বিনামূল্যে রাখাতে পারবেন।
🕌 মসজিদ – নামাজ, কুরআন শিক্ষা ও আত্মিক উন্নয়নের কেন্দ্র
🏫 স্কুল ও মাদ্রাসা – আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়
📚 লাইব্রেরি – জ্ঞানচর্চা ও পড়াশোনার পরিবেশ
🏥 হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টার – নিয়মিত চিকিৎসা ও জরুরি সেবা
🧠 স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার – শিশু ও তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলা
🛏️ আবাসিক ফ্লোর – এতিম শিশু ও প্রবীণদের নিরাপদ বসবাস
🍽️ ডাইনিং ও কিচেন ব্লক – স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা
🧓 Old Home ইউনিট – অভিভাবকহীন প্রবীণদের জন্য সম্মানজনক জীবন
রায়েরবাজার, হাজারীবাগ, পশ্চিম ধানমন্ডি, ঢাকা
এখানে প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় সুবিধাভোগীরা রাজধানীর কেন্দ্রে বসেই উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক সংযোগ পাবে।
এই বিশাল মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন নির্ভর করছে আপনার যাকাত, সদকা ও দানের উপর।
আপনার একটি দান পারে
✔️ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে
✔️ একজন প্রবীণের জীবনের শেষ সময় সম্মানের সঙ্গে কাটাতে
✔️ সমাজে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে