কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে সৃষ্ট অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে, আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন দাফন-দাফন পরিষেবা প্রকল্প শুরু করেছে, যা সম্প্রদায়ের কল্যাণের প্রতি তাদের অটল প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে, এই করুণাময় প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৩০০০-এরও বেশি মৃতদেহ মর্যাদাপূর্ণভাবে দাফন পেয়েছে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকেঃ
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“যে একজনের জীবন বাঁচাল, সে যেন পুরো মানবজাতিকে বাঁচাল।” (সূরা মায়েদা ৫:৩২)
হাদিসে আসছে:
রাসুল সা. বলেন,
“যে জানাজায় শরিক হয়, সে এক কিরাত সওয়াব পায়; আর দাফন পর্যন্ত থাকলে দুই কিরাত।” (বুখারি, মুসলিম)
কোভিডের সময় বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়ে। হাসপাতালগুলো ভরে যায়, অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন পাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়, আর অনেক পরিবার প্রিয়জনের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করতে পারছিল না।
এই সংকটে আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন যে কাজগুলো করেছে
🔹 ৩,০০০+ মরদেহের দাফন সম্পন্ন
গোসল, কাফন ও কবর পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইসলামি পদ্ধতিতে
🔹 ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মাঠে নামানো
PPE ব্যবহার করে লাশ পরিবহন ও দাফনে অংশগ্রহণ
🔹 ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস
করোনায় আক্রান্ত ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া
🔹 অক্সিজেন সাপোর্ট ইউনিট চালু
বাসা ও হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া
🔹 দাফনের খরচ বহন
দরিদ্র পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা প্রদান
যদিও করোনা মহামারী শেষ হয়েছে, কিন্তু অসহায় মানুষের সংকট শেষ হয়নি। তাই এই সেবাগুলো স্থায়ী মানবিক প্রোগ্রামে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
🕊️ দাফন ও জানাজা সাপোর্ট
দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মৃতদের দাফনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়
🚑 ২৪/৭ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস
দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, কিডনি, ক্যান্সারসহ জরুরি রোগীদের জন্য
🫁 অক্সিজেন সাপোর্ট
শ্বাসকষ্ট, বয়স্ক ও গুরুতর রোগীদের বাসা ও হাসপাতালে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া
🧾 পরিবারকে মানসিক ও প্রশাসনিক সহায়তা
কবরস্থান, কাগজপত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সহায়তা প্রদান
মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু নিশ্চিত করা
গরিব ও অসহায় পরিবারকে শেষ মুহূর্তে একা না ফেলা
মানবিকতার বাস্তব রূপ প্রতিষ্ঠা করা
আল-মুজাহিদ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে—মানুষের শেষ যাত্রাটুকুও যেন হয় সম্মানের সঙ্গে।